বাড়ি সর্বশেষ কিংবদন্তী পরিচালক মৃণাল সেন আর নেই

কিংবদন্তী পরিচালক মৃণাল সেন আর নেই

19
0

বলা না বলা রিপোর্ট:

না ফেরার দেশে চলে গেলেন কিংবদন্তী পরিচালক মৃণাল সেন। রোববার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ভবানীপুরে নিজের বাড়িতেই হৃদরোগে মৃত্যু হয় তার। বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে মৃনাল সেনের বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।

১৯২৩ সালের ১৪ মে মৃণাল সেন বর্তমান বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। এরপর পড়াশোনার চলে যান কলকাতায়। পদার্থবিদ্যা নিয়ে স্কটিশ চার্চ কলেজ ভর্তি হয়ে পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি করেন মৃনাল সেন।

ছাত্র জীবনে কমিউনিস্ট পার্টির সাংস্কৃতিক শাখার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পড়াশোনা শেষ করে সাংবাদিকতা শুরু করেন তিনি। এরপরে ওষুধ বিপননকারী হিসেবেও কাজ করে মন বসাতে না পেরে চলচ্চিত্রে শব্দ কলাকুশলী হিসাবে কাজ করেন। এ পর্যায়ে তিনি নিজেই চলচ্চিত্র পরিচালনার শুরু করেন।

১৯৫৫ সালে মৃণাল সেনের প্রথম পরিচালিত ছবি রাতভোর মুক্তি পায়। শুরুর ছবিটি ফ্লপ হলেও এরপরই দ্বিতীয় ছবি নীল আকাশের নীচে এনে দেয় পরিচিতি। তৃতীয় ছবি বাইশে শ্রাবন থেকে তিনি আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান মৃনাল সেন। ১৯৬৯ সালে তাঁর পরিচালিত ছবি ভুবন সোম মুক্তি পায়। এই ছবিটি অনেকের মতে মৃণাল সেনের শ্রেষ্ঠ ছবি।

কলকাতা ট্রিলজি- ইন্টারভিউ (১৯৭১), ক্যালকাটা ৭১ (১৯৭২) আর পদাতিক (১৯৭৩) ছবি তিনটির মাধ্যমে তিনি তৎকালীন কলকাতার অস্থির অবস্থাকে তুলে ধরেছিলেন তিনি। এরপর- এক দিন প্রতিদিন (১৯৭৯) আর খারিজ (১৯৮২) কিংবদন্তি তুল্য হয়ে যান মৃনাল সেন। খারিজ ১৯৮৩ সালের কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পায়।

এরপর ১৯৮০ সালের আকালের সন্ধানে সিনেমাটি বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পায়। এরপর মহাপৃথিবী (১৯৯২) এবং অন্তরীন (১৯৯৪) অার শেষ আমার ভুবন মুক্তি পায় ২০০২ সালে।

এই কিংবদন্তি চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব পদ্মভূষণ, দাদাসাহেব ফালকেসহ একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here