বাড়ি প্রতিবেদন নিজেকে বদলে নিয়েছেন অপু

নিজেকে বদলে নিয়েছেন অপু

28
0


আপন তারিক
মাঝে কেটে গেছে ছয় মাস! সময়ের হিসাবে তেমন কিছুই নয়! কিন্তু এরই মধ্যে পাল্টে গেছে অনেক কিছু! যে চোখ-মুখ ছিল কান্নায় ভেজা, সেখানে এখন শুধুই হাসির ঝিলিক! শাকিব খান নামটা শুনতেই হেসে গড়িয়ে পড়লেন অপু বিশ্বাস।
সেই হাসির রহস্যটা নিজেই ফাঁস করলেন টেলিভিশনের পর্দায়। বলা না বলার সম্পাদক আবদুর রহমানের সঙ্গে চ্যানেল আই-তে ‘সাময়িকী’ অনুষ্ঠানে অপু স্পষ্ট জানালেন, তিনি ভেঙে পড়ার মতো মেয়ে নন! এমনকি শাকিবের সঙ্গে ডিভোর্সের ধাক্কাটাও সামলে উঠেছেন এই চিত্রনায়িকা। একাকিত্ব বলে কিছুই নেই তার সকাল-সন্ধ্যার জীবনে!
হাসির ফোয়ারা ছুটিয়ে অপু জানাচ্ছিলেন, ‘আমি সত্যিই একাকিত্ব ফিল করছি না। আমিই সেই অপু যে রিয়েলিটি খুব পছন্দ করি। আমি ভেঙে পড়ি না। ভেঙে পড়ার কিছু নেই। হারাবার কিছু নেই। যা পেয়েছি জীবনে, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি!’
জীবনের রিয়েলিটিতে তো এটাই ঠিক-একা থাকা যায় না! বলা না বলা সম্পাদকের এমন কথার রেশ ধরে অপু যা বোঝাতে চাইলেন তাতে নিশ্চিত ফের বিয়ের ভাবনায় নেই তিনি। জানাচ্ছিলেন, এ ধরনের কোনো ভাবনাই নেই তার। সন্তানকে ঘিরেই যত ভাবনা অপুর। ছোট্ট আবরাম খান জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে রাজি নন তিনি। সন্তানের জীবনে একাকিত্ব আর যন্ত্রণা নিয়ে আসতে চান না এই চিত্রনায়িকা। এ কারণে বিয়ের ভাবনাটাও নেই!
জীবনের নতুন এক বাঁকে এখন অপু বিশ্বাস। সন্তান নিয়ে শুরু হয়েছে একা লড়াই। এখন এ পর্যায়ে এসে কি শাকিব খানকে একেবারেই মনে পড়ে না? সাময়িকী সঞ্চালক আবদুর রহমানের এমন প্রশ্ন শুনে হেসে গড়িয়ে পড়লেন ঢাকাই ছবির নামি এই অভিনেত্রী। হাসি থামিয়ে বললেন, ‘এক কাজ করতেন, আজ শাকিবকে নিয়ে আসতেন। মাঝখানে একটা চেয়ার ফাঁকা ছিল। আপনি জীবনে অনেক মানুষ দেখেছেন। স্টার, সুপারস্টার, নতুন এসেছে। জীবনের উত্থান-পতন অনেক কিছু দেখেছেন। নানান পরিস্থিতি দেখেছেন। কিন্তু আপনারা নিউজের মানুষ, কখনও কি আমাকে ভেঙে পড়তে দেখেছেন? এই যে ছয় মাস আগে আপনি আমাকে দেখেছিলেন, তার থেকে আট কেজি ওজন কমিয়ে আপনার সামনে বসতে পারতাম না। কারণ সবকিছুর মধ্যে একটি ব্যাপার ফোকাস হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, অবলা জিনিসটাকে সবাই অস্বীকার করছে।’
ক্যারিয়ারে দেখতে দেখতে ১৩ বছর পার করে ফেলেছেন অপু বিশ্বাস। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত কিংবদন্তিতুল্য চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব আমজাদ হোসেনের ‘কাল সকাল’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ২০০৫ সালে। এরপর ২০১০ সালের মধ্যেই ৫০টি ছবি করে ফেলেন তিনি। মাঝে পারিবারিক ঝড়ে হারিয়ে ফেলেছেন মূল্যবান কিছু সময়। খান সাহেবের সঙ্গে সংসারের পাট চুকিয়ে এখন মুক্ত অপু!
যাপিত জীবনের সেই ধাক্কা সামলে সামনে আরও চমক নিয়ে আসছেন অপু বিশ্বাস। ক্যারিয়ারে ব্যস্ততা নিয়ে আবদুর রহমানের সঙ্গে সেই এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে এই চিত্রনায়িকা বলেন, দেবাশীষ বিশ^াসের ‘শ^শুরবাড়ি জিন্দাবাদ’ ছবির শুটিং প্রায় শেষ। শুধু গান বাকি। তার আগে ওজনটা পাঁচ কেজির মতো কমাতে পারলে গানটা ভালো হবে। দুটো নতুন সিনেমার কথা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে ব্যাটে-বলে এখনও মেলেনি। ৮০ ভাগ কথা হয়েছে।’ একই সঙ্গে অপু জানিয়ে রাখলেন, এখন থেকে বছরে একাধিক ছবিতে কাজ করবেন না। বেছে বেছে দুই-তিনটিতেই দেখা যাবে তাকে।
দুই বছর পর চলচ্চিত্রে ফিরে ভক্তদের ভালোবাসায় আপ্লুত অপু বিশ্বাস। তিনি মনে করেন শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে যখন কাজ করতেন তখনকার চেয়ে এখন জনপ্রিয়তাটা বেড়েছে তার। তার মানে নিকট ভবিষ্যতে কি আর শাকিব-অপু জুটিকে পর্দায় দেখা যাবে না? অপু বলছিলেন, ‘আমি একজন প্রফেশনাল হিরোইন। ৯০-৯৫টি সিনেমা করেছি। সম্ভাবনা আমি বলতে পারব না। আমার দিক থেকে কোন প্রবলেম নোই। কারণ আমরা অনেক ভালো সিনেমা উপহার দিয়েছি। দর্শকদের জন্য হলেও আমাদের আরো কাজ উপহার দেওয়া উচিত।’
যার সঙ্গে অম্লমধুর একটা সম্পর্ক ছিল। বিয়ের বন্ধনে জড়িয়েছিলেন। এরপর অনেক ঘটনা শেষে যার সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদটাও হয়েছে, সেই শাকিবের সঙ্গে কি কোনো যোগাযোগ হয় অপুর? এমন প্রশ্ন অবশ্য হেসেই উড়িয়ে দেন। ডিপ্লোম্যাটিভ চালে প্রশ্নটা এড়িয়ে যান অপু! যোগাযোগ হয় কি না তার উত্তর মিলল না!
তবে কেউ অপুর সঙ্গে অভিনয়ের প্রস্তাব শাকিবকে দিলে কি তিনি ফেরাবেন? এমন প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়েও সাবলীল অপু। বলছিলেন, ‘আমার মনে হয় রাজি না হওয়ার কিছু নেই। এই যে লম্বা সময় ধরে একটা ঝামেলা গেছে, লম্বা একটা গ্যাপ গেছে…এরপর যদি কেউ আমাদের দু’জনকে নিয়ে কাজ করে, তবে সিনেমার গল্প, গান, লোকেশনের দরকার নেই। নতুন একটা পর্দায় পোস্টার দেখবে। আমার মনে হয় সেই প্রডিউসার নতুন একটা বাড়ি কিংবা একটা ল্যান্ড ক্লুজার কিনে ফেলবে। আমার কোনো প্রবলেম নেই।’
শাকিব ছাড়া কার সঙ্গে জমতে পারে অপু বিশ্বাসের জুটি? এমন প্রশ্নে সরাসরি কোনো উত্তরের আশ্রয় খোঁজেননি অপু ইসলাম। শাকিবের সঙ্গে বিয়ের পর এই নামটাই নিয়েছিলেন তিনি। জুটি হিসেবে চিত্র নায়ক বাপ্পী চৌধুরীর নামটা অবশ্য মুখে আনেন তিনি। তবে পরিকল্পনা করে এই নিয়ে ভাবছেন না অপু! জুটি প্রথার ব্যাপারটা সময়ের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।
১৩ বছরের ক্যারিয়ারে পর্দায় অপু বিশ্বাসের সেরা কাজ কোনটি, যেটাতে নিজের মতো করে কাজ করতে পেরেছেন? আবদুর রহমানের এই প্রশ্নের উত্তরে অপুর উত্তর- ‘প্রথমেই আমি বলব কোটি টাকার কাবিন, কারণ এই সিনেমায় কাজ করার আগে আমি অভিনয় সম্পর্কে তেমন কিছু জানতাম না। এটাই শাকিবের সঙ্গে আমার প্রথম সিনেমা। চলচ্চিত্রের অভিজ্ঞরা আমাকে এই ছবিতে অভিনয় নিয়ে অনেক প্রশংসা করেছেন। এরপরই আমি বলব দেবদাসের কথা। আমার খুব পছন্দের একজন মানুষ চাষী আঙ্কেল করেছেন এবং এই সিনেমাতে আমি একটি টাকাও তার কাছ থেকে নিইনি। এই গল্পটা ছিল আমার স্বপ্নের একটি গল্প। পারু মানে পার্বতীর চরিত্রটা করার স্বপ্নের কথা চাষী আঙ্কেলকে বলেছিলাম আমি। তার পরিচালনায় একটা কাজ করতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করছি। আর থার্ড হলো রাজনীতি। এই সিনেমার ডিরেক্টর বুলবুল বিশ্বাস খুবই নতুন একটা মানুষ। তিনি যে কনফিডেন্স নিয়ে ভালো একটা কাজ করেছেন- এটা আমি, শাকিব কিংবা মিলন ভাই কেউ ভাবতেও পারিনি।’
আর সেরা দুটি গান? যা দেখতে অপু বিশ্বাসের খুবই ভালো লাগে? এই চিত্রনায়িকা বলেন, ‘একটা হলো কোটি টাকার কাবিনের মনির খানের গান- ‘এমনও নদী পায় না সাগর, এমনও সাগর আছে নীরবে ভোর…’ এই গানটি আমার ভালো লাগে। আরেকটি হচ্ছে, ‘আমার নাইরে বন্ধু, তুমি প্রাণের মাঝি…’। এই দুটো গান স্যাড হলেও কথাগুলো গভীর রোমান্টিক।’
এখন যারা কাজ করছে তাদের মধ্যে কার কাজ ভালো লাগে? এমন প্রশ্নে অপু বলেন, ‘এখন যারা কাজ করছে অল্পতেই নিজেকে স্টার ডমিনেট করতে চায়। এটা নেগেটিভ একটা দিক। নিজেকে আকাশের চাঁদ না ভেবে ভালো কাজ প্রেজেন্ট করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।’
কিছুদিন আগে একটা রটনা উঠেছে যে, অপু বিশ্বাস মানে অপু ইসলাম ওপার বাংলায় কাজ করতে দৌড়ঝাঁপ করছে। কথাটি কতটা সত্য? খোদ নিজেই এই প্রশ্নের সামনে অকপটে বললেন, ‘আমি ওপার বাংলার একটা কাজ করেছি। একেবারে অফট্র্যাকের একটা মুভি। সিনেমার নাম শর্টকার্ট। আমার সঙ্গে আছে পরমব্রত দা আর গৌরব দা। এটা কলকাতার প্রডাকশন। এটাই আমার ক্যারিয়ারে প্রথম অফট্র্যাকের মুভি!

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here