বাড়ি প্রতিবেদন শুভ জন্মদিন রাবেয়া খাতুন

শুভ জন্মদিন রাবেয়া খাতুন

12
0

বলা না বলা রিপোর্ট :

একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কারসহ আরও অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের জন্মদিন আজ। ৮৪ বছরে পা রাখলেন তিনি। ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জে তার জন্ম। দেশের প্রথম চলচ্চিত্র পত্রিকা ‘সিনেমা’র সম্পাদক এবং প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘প্রেসিডেন্ট’-এর পরিচালক প্রয়াত ফজলুল হকের সহধর্মিনী তিনি। রাবেয়া খাতুনের ছেলে মিডিয়া মুঘল ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। বিশিষ্ট রন্ধনশিল্পী কেকা ফেরদৌসী রাবেয়া খাতুনের মেয়ে। রাবেয়া খাতুনের অন্য দুই সন্তানের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের এক সময়ের জনপ্রিয় উপস্থাপক ও বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী স্থপতি ফরহাদুর রেজা প্রবাল এবং ফারহানা কাকলী।

গবেষণাধর্মী রচনা, ছোটগল্প, ধর্মীয় কাহিনি, ভ্রমণকাহিনি, কিশোর উপন্যাস, স্মৃতিকথা লেখার পাশাপাশি চলচ্চিত্র ও নাট্য জগতেও বিচরণ রয়েছে রাবেয়া খাতুনের। তার উপন্যাস অবলম্বনে একাধিক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মিত হয়েছে। রেডিও, টিভিতে প্রচারিত হয়েছে তার লেখা অসংখ্য নাটক, জীবন্তিকা ও সিরিজ নাটক। এখনও নিয়মিত লেখালেখির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বর্ষীয়ান এই কথাসাহিত্যিক।

১৯৪৮ সালে আরমানিটোলা বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা (বর্তমানে মাধ্যমিক) পাস করেন রাবেয়া খাতুন। তার নিজস্ব সম্পাদনায় পঞ্চাশের দশকে বের হতো ‘অঙ্গনা’ নামের মহিলা বিষয়ক একটি পত্রিকা। ১৯৫২ সালের ২৩ জুলাই সম্পাদক ও চলচ্চিত্র পরিচালক ফজলুল হকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। রাবেয়া খাতুনের গল্প অবলম্বনে ১৯৬৬ সালে দেশের প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তার স্বামী ফজুলল হক। এতে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন রাবেয়া খাতুনের ছেলে ফরিদুর রেজা সাগর।

রাবেয়া খাতুনের লেখা প্রথম তিনটি উপন্যাস নিরাশ্রয়া, বিদায় ও অশোক রেবা আজও অপ্রকাশিত। ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয় তার লেখা উপন্যাস মধুমতী। পরবর্তী সময়ে অনন্ত অন্বেষা, এই বিরহকাল, ঘাতক রাত্রিসহ তার লেখা অসংখ্য বই প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৩ সালে রাবেয়া খাতুনের লেখা ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ অবলম্বনে একই শিরোনামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। পরের বছর রাবেয়া খাতুনের লেখা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক জনপ্রিয় উপন্যাস ‘মেঘের পর মেঘ’ অবলম্বনে একই শিরোনামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন গুণী চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলাম। ২০১১ সালে রাবেয়া খাতুনের আরেকটি জনপ্রিয় উপন্যাস ‘মধুমতি’ অবলম্বনে পরিচালক শাহজাহান চৌধুরী নির্মাণ করেন ‘মধুমতি’ চলচ্চিত্র।

দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে জড়িত রাবেয়া খাতুন একটা সময়ে সিনেমা পত্রিকা ছাড়াও ইত্তেফাক পত্রিকাতেও কাজ করেছেন। তিনি উপন্যাস লিখেছেন পঞ্চাশটিরও বেশি। এখন পর্যন্ত চার খণ্ডে প্রকাশিত তার লেখা ছোটগল্পের সংখ্যা চার শতাধিক। শিশুতোষ গল্প-উপন্যাসের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। রাবেয়া খাতুন বাংলাদেশের ভ্রমণসাহিত্যের অন্যতম প্রধান লেখক। ছোটগল্প দিয়েই তার লেখা শুরু। প্রথম উপন্যাস মধুমতী (১৯৬৩) প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই শক্তিমান কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। একাত্তরের নয় মাস শিরোনামের বইয়ে তিনি লিখেছেন একাত্তরের শ্বাসরুদ্ধকর দিনগুলোর কথা।

রাবেয়া খাতুন সাহিত্যচর্চার জন্য পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন একুশে পদক (১৯৯৩), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭৩), নাসিরুদ্দিন স্বর্ণপদক (১৯৯৫), হুমায়ূন স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮৯), কমর মুশতারী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৪), বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ পুরস্কার (১৯৯৪), শেরেবাংলা স্বর্ণপদক (১৯৯৬), ঋষিজ সাহিত্য পদক (১৯৯৮), লায়লা সামাদ পুরস্কার (১৯৯৯) ও অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৯)। ছোটগল্পের জন্য পেয়েছেন নাট্যসভা পুরস্কার (১৯৯৮)। সায়েন্স ফিকশন ও কিশোর উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন শাপলা দোয়েল পুরস্কার (১৯৯৬), অতীশ দীপঙ্কর পুরস্কার (১৯৯৮), ইউরো শিশু সাহিত্য পুরস্কার (২০০৩)। টিভি নাটকের জন্য পেয়েছেন টেনাশিনাস পুরস্কার (১৯৯৭), বাচসাস (বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি) পুরস্কার, বাংলাদেশ কালচারাল রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলেনিয়াম অ্যাওয়ার্ড (২০০০) ও টেলিভিশন রিপোর্টার্স অ্যাওয়ার্ড (২০০০)।

জন্মদিনে গুণী কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনকে বলা না বলার পক্ষ থেকে অনেক অনেক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here