বাড়ি গান শুভ জন্মদিন সঞ্জীব চৌধুরী

শুভ জন্মদিন সঞ্জীব চৌধুরী

9
0

বলা না বলা রিপোর্ট :

প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী, সাংবাদিক ও দেশের প্রথম সারির ব্যান্ডদল দলছুটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সঞ্জীব চৌধুরীর কথা ও সুরের অনেক গান আজও তুুমুল জনপ্রিয়। ভাঁজ খোলো আনন্দ দেখাও, আমি তোমাকেই বলে দেবো, আমি ফিরে পেতে চাই, বায়োস্কোপ, সমুদ্র সন্তানসহ আরও অনেক জনপ্রিয় গানের কারিগর তিনি। আজ ২৫ ডিসেম্বর তার জন্মদিন। ১৯৬৪ সালের এই দিনে হবিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। প্রয়াত এই শিল্পীর জন্মদিন উপলক্ষে সপ্তম সঞ্জীব উৎসবের আয়োজন করেছে সঞ্জীব উৎসব উদযাপন পর্ষদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন সঞ্জীব চত্ত্বরে উৎসব শুরু হবে আজ বিকেল ৪টায়, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

সপ্তম সঞ্জীব উৎসবে গান পরিবেশন করবে শহরতলী, বে অব বেঙ্গল, সিনা ও বাংলা ফাইভ, গানকবিসহ আরও কয়েকটি ব্যান্ডদল। আরও গান গাইবেন কণ্ঠশিল্পী ও সঞ্জীব উৎসবের অন্যতম আয়োজক জয় শাহরিয়ার। এই উৎসব আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যান্ড সোসাইটি এবং আজব কারখানা।

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার মাকালকান্দি গ্রামে সঞ্জীব চৌধুরীর জন্ম ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর। তার বাবা গোপাল চৌধুরী এবং মা প্রভাষিণী চৌধুরী। নয় ভাই-বোনের মধ্যে সঞ্জীব চৌধুরী ছিলেন সপ্তম। তার ছোটবেলা হবিগঞ্জেই কেটেছে।

এরপর ঢাকায় চলে আসেন তিনি। বকশী বাজার নবকুমার ইন্সটিটিউট থেকে ১৯৭৮ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ১২তম স্থান অর্জন করেন মেধাবী ছাত্র সঞ্জীব চৌধুরী। এরপর ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। ১৯৮০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায়ও মেধা তালিকায় স্থান করে নেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে ভর্তি হন। কিন্তু পরে গণিত বিভাগ ছেড়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

আশির দশকে সাংবাদিকতা শুরু করেন সঞ্জীব চৌধুরী। আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ, যায় যায় দিনসহ বিভিন্ন দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায় কাজ করেছেন তিনি। সর্বশেষ কাজ করেন যায় যায় দিনের ফিচার সম্পাদক হিসেবে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি কবি, গীতিকার, সুরকার, গায়ক এবং সংগঠক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন সঞ্জীব চৌধুরী।

একটা সময়ে শঙ্খচিল দলে সংগীতচর্চা করতেন। ১৯৯৬ সালে সঙ্গীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদারের সঙ্গে মিলে গড়ে তোলেন ব্যান্ডদল দলছুট। এই ব্যান্ডের অ্যালবামগুলো হলো আহ (১৯৯৭), হৃদয়পুর (২০০০), আকাশচুরি (২০০২) এবং জোছনা বিহার (২০০৭)। সঞ্জীব চৌধুরীর মৃত্যুর পর ২০১০ সালে প্রকাশিত হয় দলছুটের আরেকটি অ্যালবাম আয় আমন্ত্রণ।

২০০৭ সালের নভেম্বরে সঞ্জীব চৌধুরী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, বাইলেটারেল সেরিব্রাল স্কিমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত তিনি। হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাকে। কিন্তু ফিরে আসেননি তিনি। তিন দিন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকার পর ১৯ নভেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান সঞ্জীব চৌধুরী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো মাত্র ৪৩ বছর।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here