বাড়ি টেলিভিশন হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে নানা আয়োজন

হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে নানা আয়োজন

30
0

বলা না বলা রিপোর্ট :

দেশের নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন ১৩ নভেম্বর। ১২ নভেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটেই বাসায় কেক কেটে জন্মদিন উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। জন্মদিনের সকালে নূহাশ পল্লীতেও থাকছে বিশেষ আয়োজন। আর প্রয়াত এই কিংবদন্তির জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেল আই টিভি চ্যানেল সপ্তমবারের মতো হুমায়ূন মেলার আয়োজন করেছে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই মেলা চলবে। শুধু ‌হুমায়ূন মেলাই নয়, তার স্মরণে বর্ণাঢ্য নানা অনুষ্ঠানও প্রচার করবে চ্যানেল আই। এছাড়া দেশের অন্যান্য টিভি চ্যানেলেও প্রচারিত হবে হুমায়ূন আহমেদকে উৎসর্গ করে নানা অনুষ্ঠান।

হুমায়ূন আহমেদের অমর সৃষ্টি হিমুর মতো হলুদ পাঞ্জাবি পরে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে হিমুপ্রেমীরা হলুদ বেলুন উড়িয়ে হুমায়ূন মেলার উদ্বোধন করবেন সকাল ১১টা ৫ মিনিটে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের সদস্যরাসহ বিভিন্ন অঙ্গনের হুমায়ূন ভক্ত ও বিশিষ্টজনরা। মেলায় হুমায়ূন আহমেদের লেখা বই, তার নির্মিত চলচ্চিত্র ও নাটকের ভিডিও সিডিসহ বিভিন্ন ধরণের পণ্য ও সেবার পসরা দিয়ে সাজানো থাকবে স্টলগুলো।

জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ উন্মুক্ত মঞ্চ। সেখানে হুমায়ূন আহমেদের লেখা গান পরিবেশন করবেন শিল্পীরা। তার স্মরণে স্মৃতিকথা শোনাবেন বিশিষ্টজনরা। নৃত্য পরিবেশন করবে চ্যানেল আই সেরা নাচিয়ের শিল্পীসহ অন্য শিল্পীরা। হুমায়ূন আহমেদের লেখা থেকে আবৃত্তি পরিবেশনাও থাকবে। হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে চিত্রাংকন করবে বিভিন্ন বয়সের শিশুরা। মেলা সরাসরি দেখা যাবে চ্যানেল আই টিভি এবং চ্যানেল আইয়ের ফেসবুক পাতায়। এছাড়া রেডিও ভূমিতে শোনা যাবে মেলার আদ্যোপান্ত।

হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে ছোটপর্দার নানা আয়োজনের মধ্যে চ্যানেল আইয়ে থাকছে ‘গানে গানে সকাল শুরু’ অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্ব। সকাল সাড়ে ৭টায় এই অনুষ্ঠানে হুমায়ূন আহমেদের লেখা চলচ্চিত্র ও নাটকের গান সরাসরি গাইবেন সেরাকণ্ঠ ও ক্ষুদে গানরাজের শিল্পীরা। বিকেল ৩টা ০৫ মিনিটে প্রচারিত হবে হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত তার জীবনের শেষ চলচ্চিত্র ঘেটুপুত্র কমলা।

বিশেষ দিনটি উপলক্ষে দেশের অন্যান্য টিভি চ্যানেলেও থাকবে দিনব্যাপী নানা আয়োজন। বাংলাভিশন টিভি চ্যানেলে থাকছে উল্লেখ করার মতো কিছু অনুষ্ঠান। চ্যানেলটি ১৩ নভেম্বর সকাল ৬টায় প্রচার করবে হুমায়ূন আহমেদের নাটক তারা তিনজন হে পৃথিবী বিদায়। সকাল ৮টায় প্রচারিত হবে হুমায়ূন আহমেদের হাতে কয়েকটি নীল পদ্ম শিরোনামের অনুষ্ঠান। সকাল ৯টা ৫ মিনিটে দেখানো হবে হুমায়ূন আহমেদের নীলপদ্মের ছোঁয়া শিরোনামের সেলিব্রেটি শো। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস ও রিয়াজ। সকাল সাড়ে ১০টায় একই অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অতিথি হবেন কুদ্দুস বয়াতী, এস আই টুটুল ও সেলিম চৌধুরী। এছাড়া সকাল সাড়ে নয়টায় ও ১০টা ১০ মিনিটে প্রচারিত হবে বিশেষ দুটি অনুষ্ঠান যে থাকে আঁখি পল্লবে এবং শুয়া চান পাখি। সকাল ১১টা ৫ মিনিটে সরাসরি সম্প্রচারিত সকাল বেলার রোদ্দুর অনুষ্ঠানে অতিথি হবেন অভিনেতা প্রাণ রায়। বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে প্রচারিত হবে হুমায়ূন আহমেদের নীলপদ্মের ছোঁয়া অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্ব। এই পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শক্তিমান দুই অভিনেতা জাহিদ হাসান ও মাহফুজ আহমেদ।

হুমায়ূন আহমেদ (১৩ নভেম্বর ১৯৪৮ – ১৯ জুলাই, ২০১২) ছিলেন একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার, গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও চলচিত্র নির্মাতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সেরা লেখকদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচিত তিনি। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও সফল তিনি। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা তিন শতাধিক। বাংলা উপন্যাসে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ১৯৯৪ সালে দেশের দ্বিতীয় বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি পুরস্কার, মাইকেল মধুসুদন পদক, জয়নুল আবেদীন স্বর্ণপদকসহ আরও অনেক সম্মাননা ও পুরস্কার রয়েছে তার ঝুলিতে। ১৯৯২ সালে শঙ্খনীল কারাগার চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার বিভাগে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন হুমায়ূন আহমেদ। তার পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শ্যামল ছায়া ছবিটি অস্কারে গিয়েছিল। তার পরিচালিত প্রতিটি ছবিই দর্শকনন্দিত হয়েছে। এইসব দিনরাত্রি, কোথাও কেউ নেই, অয়োময়, নিমফুল, তারা তিনজনসহ বহু জনপ্রিয় নাটকেরও কারিগর তিনি।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত নেত্রকোণা মহুকুমার মোহনগঞ্জে নানাবাড়িতে জন্ম হয় হুমায়ূন আহমেদের। তার নাম রাখা হয়েছিল শামসুর রহমান। আর ডাক নাম ছিল কাজল। তার বাবা ফয়জুর রহমান নিজের নামের সঙ্গে মিল রেখে ছেলের নাম শামসুর রহমান রাখলেও পরে ছেলের নাম পাল্টে হুমায়ূন আহমেদ রাখেন। তার বাবা শহীদ ফয়জুর রহমান পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন পিরোজপুর মহকুমার উপ-বিভাগীয় পুলিশ অফিসার হিসেবে কর্তব্যরত অবস্থায় শহীদ হন। ফয়জুর রহমান পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করতেন। দ্বীপ নেভা যার ঘরে নামে বইও লিখেছিলেন তিনি। হুমায়ূন আহমেদের মা আয়েশা ফয়েজের লেখালেখির অভ্যাস না থাকলেও শেষ জীবনে একটি আত্মজীবনী বই রচনা করেন যার নাম জীবন যে রকম। হুমায়ূন আহমেদের ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও কথাসাহিত্যিক। আরেক ভাই আহসান হাবীব রম্য সাহিত্যিক ও কার্টুনিস্ট। দীর্ঘ নয় মাস ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধ করে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের বেলেভ্যু হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হুমায়ূন আহমেদ। ঢাকার অদূরে গাজীপুরে নিজের বাগানবাড়ি ও শুটিংস্পট নুহাশ পল্লীতে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন কিংবদন্তী এই কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা।

বাংলা সাহিত্যের প্রবাদপুরুষ হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিনে বলা না বলার পক্ষ থেকে অনেক অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here